মূল অংশে যান
দৈনিক প্রতিধ্বনি দৈনিক প্রতিধ্বনি
ব্রেকিং
বিজ্ঞাপন

মেডিসিন নোবেল ২০২৪: মাইক্রোআরএনএ আবিষ্কারের মাধ্যমে জিনের রহস্য উন্মোচন করলেন ভিক্টর অ্যামব্রোস এবং গ্যারি রুভকুন

অ্যাডমিন প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সর্বশেষ হালনাগাদ: ৪ দিন আগে ৩ মিনিট পড়ুন
মেডিসিন নোবেল ২০২৪
মেডিসিন নোবেল ২০২৪
শেয়ার করুন:

মানবদেহের প্রতিটি কোষ কীভাবে নির্দিষ্ট কাজ করে এবং কীভাবে জিনের ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রিত হয়—এই জটিল রহস্য উন্মোচন করে এ বছর চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জয় করেছেন দুই মার্কিন বিজ্ঞানী ভিক্টর অ্যামব্রোস এবং গ্যারি রুভকুন। তাঁদের এই যুগান্তকারী আবিষ্কার হলো 'মাইক্রোআরএনএ' (microRNA), যা জীবের শারীরিক গঠন ও রোগের কারণ বোঝার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুন এক দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

সোমবার (৭ অক্টোবর) সুইডেনের স্টকহোমে ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি এই বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। পুরস্কারের ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার (প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার) দুই বিজ্ঞানীর মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে।

আবিষ্কারের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব:

১৯৯০-এর দশকের শুরুতে ভিক্টর অ্যামব্রোস এবং গ্যারি রুভকুন ভিন্ন ভিন্ন গবেষণাগারে কাজ করেও এমন এক ক্ষুদ্রাকার আরএনএ কণা আবিষ্কার করেন, যা জিনের অভিব্যক্তি (gene expression) নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাদের এই গবেষণা মূলত একটি ক্ষুদ্র গোলকৃমির (C. elegans) ওপর ভিত্তি করে ছিল।

আমরা জানি, মানবদেহের প্রতিটি কোষে একই জেনেটিক তথ্য বা ডিএনএ থাকে। কিন্তু একটি পেশি কোষ কেন স্নায়ু কোষ থেকে আলাদা আচরণ করে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘকাল ধন্দ্বে ছিলেন। এই দুই বিজ্ঞানী দেখিয়েছেন, মাইক্রোআরএনএ একটি নির্দিষ্ট জিনের মেসেঞ্জার আরএনএ (mRNA)-র সাথে যুক্ত হয়ে তাকে প্রোটিন তৈরি করতে বাধা দেয়। এই প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় 'পোস্ট-ট্রান্সক্রিপশনাল জিন রেগুলেশন'।

সহজ কথায়, মাইক্রোআরএনএ কোষের মধ্যে একটি 'সুইচ' বা নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে, যা নির্ধারণ করে কোন জিন কখন সক্রিয় হবে এবং কতটা প্রোটিন তৈরি করবে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে ভবিষ্যৎ প্রভাব:

নোবেল কমিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অ্যামব্রোস এবং রুভকুনের এই আবিষ্কার সম্পূর্ণ নতুন এক ধরণের জিন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উন্মোচন করেছে, যা মানুষসহ সকল বহুকোষী জীবের জন্য অপরিহার্য।

বিজ্ঞানীরা এখন বিশ্বাস করেন যে, ক্যান্সার, অটোইমিউন রোগ এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগের মতো জটিল ব্যাধিগুলোর সাথে মাইক্রোআরএনএ-এর অস্বাভাবিক কার্যকারিতার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এই কণাগুলোকে লক্ষ্য করে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ওষুধ এবং থেরাপি উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে, যা চিকিৎসা ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।

ভিক্টর অ্যামব্রোস বর্তমানে ম্যাসাচুসেটস মেডিকেল স্কুলের প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং গ্যারি রুভকুন হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে জেনেটিক্সের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। তাঁদের এই কৃতিত্ব বিশ্বজুড়ে চিকিৎসা গবেষণা কমিউনিটিতে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।

(এই পোস্টটির সাথে ব্যবহার করার জন্য নিচে একটি ছবি তৈরির বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো। এই বর্ণনাটি আপনি যেকোনো AI ইমেজ জেনারেটরে ব্যবহার করে একটি ইউনিক ছবি তৈরি করতে পারেন।)

ইমেজ কনসেপ্ট এবং AI প্রম্পট:

ছবিটি কেমন হবে: ছবিটি হবে একটি আধুনিক চিকিৎসা গবেষণা ল্যাবরেটরির ভেতরকার দৃশ্য। সেখানে দুইজন বয়স্ক বিজ্ঞানী (সাদা চুল ও চশমা পরা) মাইক্রোস্কোপ এবং কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে দাঁড়িয়ে গভীরভাবে আলোচনা করছেন। কম্পিউটার স্ক্রিনে উজ্জ্বল নীল এবং বেগুনি রঙে ডিএনএ ডাবল হেলিক্সের পাশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কিছু বাঁকানো কণা (মাইক্রোআরএনএ বোঝাতে) দৃশ্যমান। ল্যাবের পেছনের দিকে কাঁচের পাত্রে রঙিন তরল এবং কিছু বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি রাখা আছে। আলোর উৎস হবে হালকা নীল ও সাদা এলইডি, যা একটি গবেষণামূলক ও ভবিষ্যৎমুখী পরিবেশ তৈরি করবে।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য (০)

প্রথম মন্তব্যটি করুন।

প্রতিদিন সকালে

দিনের প্রয়োজনীয় খবরটুকু, আপনার ইনবক্সে

সকাল ৭টায় একটি ইমেইল — রাতের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, দিনের সূচি আর যা না জানলেই নয়।